Showing posts with label এবারের নতুন মুখ. Show all posts
Showing posts with label এবারের নতুন মুখ. Show all posts

Saturday, November 25, 2017

কবিতা /গ্রামাটিক ভুল / বুবুসীমা চট্টোপাধ্যায় ...(এবারের নতুন মুখ )



লিখবো বললেই যে লিখে রাখা যায় মেঘের গায়ে বৃষ্টিকথা !
তার কোনো মানে হয়না কবি সব বৃষ্টি বুঝি ব্যাকরণ মেনে
নেমে আসে পাথরের ফেটে যাওয়া চাতালে ?
মা কিশোরী বেলায় নদীর ধারে শুধু একবার হোলিতে ডুব দিয়েছিল ; 
সব রং ধুয়ে যখন শাল পাতায় মুখ ঢেকে বাড়ি ফিরল 
তখন কোনো অংক ছিল না জীবনে তাই হিসেবেও ভুল নেই 

বাবা পাই টু পাই হিসেব বুঝে নিয়েছিল নদীর কাছে সেই রঙের; 
ভুল ছিল সেটাই যে ,  মা তাঁর কিশোরী বেলার  নদীতে
আমাদের কখনো স্নান করাতে পারেনি । ব্যাকরণে ভুল ছিল
সেখানের প্রতিটি ইট,কাঠ ,মাঠ তাই সব ধুলো হয়ে গেছে ,
বসন্ত উৎসব হয় কি আর সেখানের পলাশে আর মহুয়ায় ?
মা দেখতে যাওয়ার সময় পায়নি আর কখনো ।

যখন লালে লাল ফাগুনের হোলির সকাল ,
আড় বাঁশীতে সুর তোলে ফাগুনিয়া ঠাকুর দালান থেকে
ঘ্রাণ আসতো বিষ্ণুর পরমান্নে দুধ আর এলাচের মিলনের ।
দোল মঞ্চের পাশে লাল পাড় শাড়িতে মা দাঁড়ালে
প্রদীপের আলো ম্লান হয়ে যেতো ডান হাতের আঙুলে সিগারেটের
বদলে চিরকাল কলম দেখেছি বাবার বহুবার মায়ের
সেই রঙ ধোয়া নদীকলমের মুখে স্রোত বইয়ে দিয়েছে তবু যেন
সব রঙ ব্যাকরন মেনে রঙিন হয় না ।

নদী ভুল পথে বাঁক নিলেও বাবা একটা আস্ত পলাশের
ডাঙা দিয়েছিল মাকে উপহার মাঝখানে টলটলে জলের দীঘি।
রঙিন হতে হতে মা এক একটা বসন্তে সবটুকু রঙ উজাড় করে দিতো
বাবার স্বপ্নের পায়ে 
মায়ের সেই রঙ পিচকিরির উল্টো টানে টানতে টানতে
বাবার বয়স পেরিয়ে যায় বৃষ্টিকথার মতো ।
রোগা শীর্ণ হাতে
লাল পাড় শাড়ির ঘোমটা তুলে দিচ্ছে আজ বাবা মা রঙ্গিন
হয়ে ঘোলাটে চোখে তাকিয়ে থাকে  কবির কলমের দিকে ! 
ভুল ব্যাকরনে শখের দোলমঞ্চ অসহায় । সমস্ত
জীবনীশক্তি ক্ষয় করে যে পাথরের চাতাল বানিয়ে
ফাগুনিয়া সুর তুলেছিল তাতে যে ব্যাকরনের ভুল সুর সাধা ।


অনু গল্প / 'পেটের দায়ে' / রীনা রায় ( এবারের নতুন মুখ )



প্রায় দশ মিনিট হয়ে গেল,এখনও উবেরটা এলোনা-ফোনে দেখাচ্ছে খুব কাছেই রয়েছে---অবশ্য এই রাস্তাটায় এই সময়টায় এত জ্যাম হয়, কিন্তু সময়ে না পৌঁছলে---যথেষ্ট উদ্বিগ্ন লাগছিল পরমকে।
---
চোখ ফেরানো যায়না এতটাই সুদর্শন পরম সিং, গ্রাম থেকে শহরে এসেছিল সিনেমায় অভিনয়ের স্বপ্ন নিয়ে, রোজগারের আশা নিয়ে ---বোনের বিয়ে, বাবার কারখানার লক আউট, মায়ের অসুস্থতা--সবের মাঝে ওর উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন অধরাই থেকে গেছিলো, ওর এই সুন্দর চেহারাটাকেই সম্বল করে ও অকূল পাথারে ঝাঁপ দিয়েছিল ।
---
ঐ যে এসে গেছে, পরম উবেরে উঠে আর একবার অ্যাড্রেসটায় চোখ বুলিয়ে নিলো।
ক্লায়েন্ট আসবার আগেই ওকে হোটেলের রুমে পৌঁছতে হবে।
ক্লায়েন্টের বিবরণ দেওয়া আছে।
মহিলার বয়স প্রায় তার দ্বিগুণ।
ওকে ছবিও পাঠানো হয়েছে।
আজ এই মহিলাকে সুখী করতে পারলে পুরো একলাখ টাকা পাবে, টাকার বড় দরকার --বোনটাকে ভালভাবে মানুষ করতে হবে! 
---
ইদানীং 'জিগোলো' পরমের চাহিদা খুব বেড়েছে---
আবার একটা ফোন আসছে, আজ আর ভাল লাগছেনা, তবু কিছু করার নেই, হোটেলের সঙ্গে ও চুক্তিবদ্ধ--
ফোনটা তুলে হ্যালো বলল পরম --
'পরম, আমি শ্রেয়া---'
প্রচন্ড চমকে ফোনটা কেটে দিলো পরম--শ্রেয়া! তার একমাত্র ভালবাসা! 
আবারও বাজছে ফোনটা--শ্রেয়া! 
পরম ফোনটা তুলে বললো, 'সরি, রং নাম্বার! '
এজেন্টের দেওয়া অন্য ফোনটা বাজছে--পরম সেই ফোনটা রিসিভে ব্যস্ত হয়ে পড়লো।

সম্পাদকীয় ও চিত্রাঙ্কন-গৌতম সেন ... সম্পাদনা ও কারিগরী সহায়তা - নূপুর বড়ুয়া

সম্পাদকীয় ও চিত্রাঙ্কন-গৌতম সেন ... সম্পাদনা ও কারিগরী সহায়তা - নূপুর বড়ুয়া