Thursday, March 23, 2017

কবিতা......বুনো হাতি ......পিনাকী দত্ত গুপ্ত





দোলের চাঁদ ডুবে যেতেই মানুষগুলো বেরিয়ে পড়ল শিকারের সন্ধানে

অন্ধকারে দানবের মত সবুজ চোখ মেলে ওরা শুষে নিচ্ছিলো সর্পগন্ধার নির্যাস

ওদের দানবীয় ছায়াগুলি দীর্ঘ হতে হতে ঢেকে দিলো শস্যের ক্ষেত, অরণ্যের আলো সুপ্রাচীন শিলালিপির স্তুপ

গুহামানবের মত অর্ধনগ্ন বল্কলে ঝরে পড়ছে কামাতুর লালা, ঝরে পড়ছে অনিদ্রিত রাত, বরফের মত তীক্ষ্ণ শিশির

দোলের চাঁদ ডুবে যেতেই মানুষগুলো বেরিয়ে পড়লো শিকারের সন্ধানে



পায়ের নিকষ শব্দে জেগে ওঠে যত শবদেহ পৃথিবীর আনাচে কানাচে তক্ষক ডেকে ওঠে

একটা পরিখা ঘিরে দাঁড়িয়ে রয়েছে ওরা লাল আগুনের আঁচে ছুটে চলে সোনার হরিণ 

আগুন এগিয়ে আসে আহা, এক সুতীব্র বাঁচার ইচ্ছে যেন ওকে উন্মত্ত করে তোলে 

মায়া-মৃগ  ছুটে চলে ছুটে চলে ছুটে ছুটে ছুটে চলে দানবীয় উল্লাসে মেঘ সরে যায়, পাপিষ্ঠা চাঁদ হেসে ওঠে  

চামড়ার পোড়া গন্ধে আকাশ বাতাস ভরে যায় আহা, যেন স্বপ্নের ভোজ ধারালো অস্ত্র দিয়ে কেটে কেটে ওরা তৃষ্ণা মেটায়



হঠাৎ দিগন্তব্যাপী বৃংহণে ঝড় ওঠে নীল পাহাড়ের বুক চিরে নেমে আসে একদল দাঁতালো বুনো হাতি

স্তম্ভের মত পায়ে পায়ে ওরা পিষে ফেলে, পিষে ফেলে, পিষে পিষে পিষে ফেলে দানবের জিহ্বা, লিঙ্গ, বিবমিষা

সোনার হরিণ ঘিরে ওরা গোল হয়ে, গোল গোল হয়ে পাক খায় ধিকি ধিকি জ্বলে চলে পরিখার অভিশপ্ত আগুন

আরো এক যুগ কেটে গেলে, আবার উঠবে দোল-পূর্ণিমা চাঁদ 

আবার বীর্য-মেঘে চাঁদ ডুবে গেলে, দানবীয় উল্লাসে শিকারের তীব্র নেশায় বেরিয়ে পরবে যত সভ্য মানুষ

দিগন্ত ব্যাপী বৃংহণে ঝড় তুলে, আবার পাহাড় থেকে নেমে আসবে একদল অরণ্যের দাঁতালো বুনো হাতি 

আবার , আবার, আবার...

দিয়ার ডায়েরী থেকে... চতুর্থ পর্ব.........পারমিতা চ্যাটার্জী


দিয়া নিজের সৃষ্টির দিকে মাঝে মাঝে অবাক হয়ে তাকিয়ে থাকত , তার গর্ব হত, এই সুন্দর মেয়ে দুটি তারই , নিজের সমস্ত স্বপ্ন উজাড় করে এই মেয়ে দুটিকে সে তৈরী করেছে, তাদের স্কুলে যাওয়া, একটু একটু করে বড় হয়ে ওঠা,  রাত জেগে ওদের পড়ানো, রেজাল্ট বার হবার সময় তীব্র উত্তেজনা সব কিছু সে অন্তর দিয়ে অনুভব করেছে। বড় মেয়ের স্কুলের গণ্ডী পেরিয়ে এবার কলেজে যাবে, গোখেল স্কুলে আর্টস গ্রুপে প্রথম হয়েছে, ভর্তি হল লেডি ব্রেবোর্ন কলেজে অর্থনীতিতে অনার্স নিয়ে , তার সাথে স্ট্যটিস্টিক্স আর ম্যাথেমেটিক্স নিয়ে, বি এ পরীক্ষার রেজাল্ট বার হল মেয়ে তার ইউনিভারসিটিতে থার্ড হয়েছে আর নিজের কলেজে প্রথম । কলেজ থেকে আড়াই হাজার টাকা পুরস্কার আর অনেক বই উপহার স্বরূপ পেয়েছে ।সন্তানের প্রত্যেকটা জয়ের সোপান মনে হয়েছিল দিয়ার নিজের সোপান , সে যেন একটু একটু করে তার তৈরী ওই সোপান দিয়ে উঠে আসছে।
দিয়ার মনে পড়ে সে যখন ছোট ছিল তখন সে খুব হীনমন্যতায় ভুগত ,তার মনে হত সে নিজে নিজে কিছুই পারবেনা, কারণ তার বাবা সব সময় তাকে আড়াল দিয়ে রাখত , কেউ কিছু বললেই বাবা বলতেন ও তো ছোট ও পারবে কি করে? সে যখন ক্লাস সেভেন এইটের ছাত্রী সে তার অনেক বন্ধুরা বাসে ট্রামে স্কুলে যেত আর সে যেত স্কুল বাসে, কোন কারণে স্কুলবাস না আসলে তার স্কুল যাওয়া হতনা , বাবা বলতেন কি করে যাবে ট্রামে বাসে করেদিয়া হয়ত বলত আমার অনেক বন্ধুরাতো যায় কি হবে গেলে ? বাবা গম্ভীর হয়ে বলতেন তর্ক করেনা, ট্রামে বাসে চলতে গেলে শরীর অনেক মজবুত করতে হয় , বাবার ভয়ের জন্য দিয়ার শৈশব যৌবনটা যেন এক বদ্ধ কৌটার মধ্যে আটকে গিয়েছিল, অভিমানে তার দুচোখ দিয়ে জল পড়ত কেন এই অবিচার? সবাই যা পারে সে কেন তা পারবেনা ? কিন্তু বাবার মুখের ওপর কোন কথা বলতে পারতনা। শুধু ট্রামে বাসে করে যেতে হবে বলে ক্লাস ইলেভেনে তার নিজের অত্যন্ত ভালো  স্কুল ছেড়ে বাড়ীর কাছের স্কুলে ভর্তি হয়েছিল, এটা তার জীবনের এক বিরাট ক্ষতির কারণ। তাও দিয়া কলেজে অনার্স নিয়ে ভালো ভাবেই পড়ছিল কিন্তু  বি এ ফাইনাল পরীক্ষা শেষ হবার দুদিনের মধ্যে তার বিয়ে হয়ে যায় এক সংস্কারাচ্ছন্ন ব্যাবসায়ী পরিবারে যেখানে তার জীবনের সব আলোগুলো একটু একটু করে নিভে যায়, অথচ তার দিল্লীতে ভালো ইঞ্জিনিয়ার পাত্রের সাথে সম্বন্ধ প্রায় ঠিক হয়ে গিয়েছিল,কিন্তু ববা বললেন দিল্লীতে গিয়ে ও একা একা সব কিছু কি করে করতে পারবে? কিন্তু দিদির ক্ষেত্রে বাবার এতো কড়া নিয়ম ছিলনা, দিদি যাদবপুর থেকে এম এ পাস করেছে , একা একা বাসে করে ইউনিভার্সিটতে যেত , বন্ধুদের সাথে সিনেমায় যেত, কফিহাউসে মোগলাই খেত, তার বিয়েও হয়েছিল ভালো ইঞ্জিনিয়ার পাত্রের সাথে। এই দিদি দিয়ার মায়ের মতন ,দিয়ার অন্তরের দুঃখ অনুভব করতে পারত । কিন্তু দিদি চলে গিয়েছিল অনেক দূরে সুদূর আমেরিকা । একমাত্র চিঠি ছাড়া আর কোনও যোগাযোগের পথ ছিলনা। সংসারের বিরাট ঝামেলা সামলে চিঠি লেখার সময় তার কাছে খুব কমই থাকত, তাই চিঠিও লেখা হতনা। এক এক সময় দিয়ার মনে হত তারই দিদি আমেরিকায় প্যান্ট পড়ে চাকরি করছে আর সে পায়ে আলতা দিয়ে মাথায় ঘোমটা দিয়ে বর্ধমানে গুরুবাড়ী যাচ্ছে, কত তফাত দুই বোনে। বাবার ওপর তীব্র অভিমানে তার দু চোখ দিয়ে জল বার হত কিন্তু তা আপনি শুকিয়ে যেত কেউ দেখতে পেতনা। চতুর্দিকে পারবেনা পারবেনা শুনে শুনে দিয়ার মনে হত সত্যি সে কিছু পারবেনা। বিয়ের পর তার স্বামীও বলত তুমি এই ঘর কন্যার কাজ রান্নাবান্না এই সবই ভালো পারবে আর কিছু তোমার দ্বারা হবেনা । দিয়ার অনেক বন্ধুদের অল্প বয়েসে বিয়ে হয়ে গিয়েছিল কিন্তু বিয়ের পর তারা স্বামী শ্বশুরবাড়ীর ইচ্ছায়  সহযোগিতায় বি এ ,এম এ পাস করে নিজেদের পায়ের তলায় মাটি শক্ত করে নিয়েছিল । কিন্তু দিয়া সংসারে কারও কাছে কোনও সহযোগিতা পায়নি, আর কেউ তো দূরের কথা স্বামীর কাছেও না । তার সোনার বসন্তের দিনগুলি কেটে যেত ঘোমটার আড়ালে , রান্নাঘরের তেলকালির মধ্যে।
                                                                                               ক্রমশ


Wednesday, March 22, 2017

ফিরে দেখা (ধারাবাহিক)............সুব্রত ঘোষ



মাঝে মাঝে দেখছি আসিফের কল আসছে, বোঝা যাচ্ছে ও আড্ডায় থেকেও কাজের চাপে অন্য মনস্ক।
ঘন ঘন বিজয় বউয়ের খবর নিচ্ছে, খাওয়া হয়েছে কিনা। পলাদি রান্নার তদারকি করছে মাঝে আর আমাদের জ্ঞান দিচ্ছে, বেশী ড্রিঙ্ক করিস না কেউ তোরা। কবীর আবার মোবাইল নিয়ে ব্যস্ত, কি করছে জানি না। সব্বাই কেমন আড্ডায় থেকেও নেই, নিজের নিজের জগত নিয়ে আছে আড্ডার মাঝেই। শুভ পানীয়ের নেশা উপভোগ করছে বেসুরো গান করে। আমি একটু বিরক্ত হয়েই বললাম, ভাই সব্বাই কতদিন পর একসঙ্গে হলাম, একটা দিন তো নিজের রোজকার জগতের বাইরে এসে প্রানখুলে আড্ডা দে। গএকবার একটু ধোঁয়ার নেশা করা দরকার, তাই উঠে পড়লাম, ব্যালকনিতে গিয়ে সিগারেট ধরালাম। বাইরে টা বেশ সুন্দর বাগান দিয়ে সাজানো, আকাশ টা খুব পরিস্কার দেখা যাচ্ছে। হঠাৎ খেয়াল করলাম অহনা পাশে দাঁড়িয়েছে। কিরে কেমন আছিস রজতদা, জিজ্ঞাসা করলো অহনা। অনেকদিন পর তোকে দেখছি, কতো পরিবর্তন, শেষ যখন দেখেছি তখন তুই বেশ রোগা কিন্তু হ্যান্ডসাম ছিলি। এখন মোটা হয়েছিস, চোখে চশমা, মাথায় চুল কমে গেছে,মুখে বয়সের ছাপ পড়লেও তুই আজও একই রকম গ্লামারাস। কতদিন তোর কথা ভেবেছি, কোথায় আছিস, কেমন আছিস।বলে আমার পিঠে হাত রাখল অহনাএকটু অস্বস্তি হচ্ছিলো কিন্তু নিজেকে সামলে নিয়ে বললাম আমি এখন মুম্বাই তে আছি রে, আর কেমন আছি? একদম ফিট আর ফাইন। রোজকার জীবনে কখনো এখানে কখনো বিদেশে, যাযাবরের জীবন। বাড়িটা আমার সরাইখানার মতো। আমরা যে যার মতো আছি, কাজ নিয়ে, বাড়িতে বউ ছেলে সবার সঙ্গে রোজ যে দেখা হয় তাও না। আচ্ছা তোর কি আমার কথা মনে পড়েছে কখনো...জিজ্ঞাসা করে অহনা। তোর কথা কেন ভুলবো, কি করে ভুলবো বললাম আমি। ছোটবেলা পাশা পাশি বাড়িতে আমরা বড় হয়েছি। একে অপরকে দেখেছি খুব কাছাকাছি। শৈশব থেকে বেড়ে ওঠা একসঙ্গে,  "কৈশোর যৌবনের অধ্যায় তোকে দেখেই শুরু। সেইদিন গুলো কি ভোলা যায় রে...বললাম। আমাকে দেখে শুরু... তবে সেটা বলিস নি তো কোনদিন ?" জিজ্ঞাসা করে অহনা। বলার মতো অবকাশ পেলাম কৈ। মাধ্যমিকের ফল বেরোনোর পর সেই দৌড় শুরু। আর যখন শেষ হল ! আমরা দুর্গাপুর ছেড়ে দিয়েছি। তুইও তো বর্ধমানে পড়তে চলে গেছিসযোগাযোগ ছিন্ন হয়ে গেলো। যেই অনুভূতি গুলো নিয়ে যৌবনের দ্বারে তোর সঙ্গে দেখা, সেগুলো শেয়ার করার মতো উপযুক্ত সময় এলো কোথায় রে।"চল একবার আমাদের পুরনো বাড়ি দুটো দেখে আসি,যাবি? ওরা একটু আড্ডা দিক," বললাম অহনাকে। বাবুলকে বলে আমি আর অহনা বেরলাম গাড়িতে, উদ্দেশ্য আমাদের পুরনো বাড়ি দুটো চাক্ষুষ করা, কতো স্মৃতি ছড়িয়ে রয়েছে ওই বাড়ি দুটোয়, সেই স্মৃতিগুলো একটু নেড়ে চেড়ে দেখা। গাড়িতে বসে এগোতে শুরু করলাম, রাস্তার দুই ধারে গাছ গুলো সব কেমন চেনা, কতদিন পর দেখে ওরাও আন্দোলিত হয়ে স্বাগত জানাচ্ছে যেন। কিছুক্ষনের মধ্যেই এসে পড়লাম আমাদের সেই চেনা রাস্তায়, যেখান থেকে একটা বাঁক নিয়ে ছোট রাস্তা চলে গেছে সেই বাড়ি দুটোর গায়ে, ছোটবেলার সেই পুরনো কোয়ার্টার। আজ যদিও অন্য কেউ থাকে নিয়মানুযায়ী। একটু কিন্তু কিন্তু করে ঢুকলাম সেই বাড়িতে, যেখানে আমার শৈশব, কৈশোর কেটেছে, যৌবনের শুরু হয়েছে যেখান থেকে। গেট খুলে ভেতরে ঢুকবার সময় বুক দুরু দুরু করছিলো, পাছে এখন যেই পরিবার আছে তারা কিছু বলে। ভেতরে ঢুকে বেল দিয়ে জানালাম আমাদের আগমনের কারণ, যে মহিলা বেরিয়ে এলেন,তিনি সহাস্যে আমাদের ঘরে যেতে বললেন। যদিও আমরা ঘরে না গিয়ে বাগানে গিয়ে দাঁড়ালাম। বেশ খানিকক্ষণ চুপ করে দুজনেই তাকিয়ে রইলাম বাগান আর পাশের বাড়িটার দিকে। ওই বাড়িতেই তো থাকতো অহনারা। দ্যাখ ওই যে পেয়ারা গাছটা, স্কুল থেকে ফিরে কতদিন ওই গাছের ডালে বসে থাকতাম,তোকে দেখব বলে, তুই চুল আঁচড়াতিস জানালার ধারে এসে, কিরে তাই তো? কখনো  তুই ওই জানালার সামনে এসে দাঁড়াতিস, মাসীমা তোকে ভেতরে যেতে বলতেন, আর তুই এক শালিক দেখেছিস, দুই শালিক দেখার ছলে জানালার সামনে দাঁড়িয়ে থাকতিস, আমাকে দেখবি বলে, তাই না... জিজ্ঞাসা করলাম অহনাকে। আস্তে ঘাড় নেড়ে সম্মতি জানালো অহনা। আর ওই যে টগর গাছটা তোদের বাগানে, রবিবার সকালে পুজর ফুল তুলতিস তুই, অনেকক্ষণ দাড়িয়ে থাকতিস অছিলায়, আমার ঘরের জানালার দিকে তাকিয়ে, আমি লুকিয়ে দেখতাম তোর সেই আকুলতা, ছটফটানি। তবে তুই আমাকে ভালবাসতিস... বলিসনি কেন তখনজিজ্ঞাসা করে অহনা। তুই গান করতিস ওই ঘরে বসে, কৈশোরে কোন মহিলার গান শোনা সেতো তোর কণ্ঠেই।  ক্লাবে বিজয়া দশমীর অনুষ্ঠানে তুই গান করতি, সঙ্গে শুভ, এক এক সময়ে খুব রাগ হতো সুভর ওপর, ভাবতাম বুঝি তোকে গানের খেয়ায় ভাসিয়ে নিয়ে চলে যাবে আমার মনের বাইরে। জানিস কতদিন গান শুনি নি, আসলে শোনার মতো সুযোগ বা পরিস্থিতিও হয় নি। একটা গান করবি...আব্দার করলাম অহনাকে। অহনা গান ধরল, জীবন মরন সীমানা ছাড়ায়ে, বন্ধু হে আমার রয়েছ দাঁড়ায়ে... আমি তোকে একটা কথা জিজ্ঞাসা করেছিলাম উত্তর পাই নি...গান শেষ করে বলল অহনা। তুই  তোর মনের কথা গোপন করে রেখেছিলি কেন? তুই কি আমাকে ভালবাসতিস, জিজ্ঞাসা করলাম অহনাকেতুইই বা কেন সেই কথা এতদিন গোপন করেছিলি, বললাম। দ্যাখ তোর প্রতি একটা দুর্বলতা ছিল, সেটা ভালোবাসা নাকি ভালোলাগা, সেই ব্যপারটা বোঝার আগেই তো তুই চলে গেলি দুর্গাপুর ছেড়ে, বলে অহনা। পরে বুঝেছিলাম সেটা ভালোলাগা দিয়ে শুরু হলেও মনের সূক্ষ্ম তন্ত্রে অনুরণন সৃষ্টি করেছিলো, বহুদিন বলব বলব করেও কেমন একটা লজ্জা আর দ্বিধায় বলা হয় নিআর যখন বলার জন্য মানসিক ভাবে প্রস্তুত হলাম তখন তোকে পেলাম কোথায় প্রকাশ করার জন্য, বলে উঠলো অহনা। জানিস হোস্টেলে থাকার সময়ও কিছু কিছু সময় একটা শূন্যতা সৃষ্টি হতো মনে, বিশেষ করে বিকেলের দিকেওই সময়টা জানালা দিয়ে তোকে দেখতাম, ভীষণ ভাবে মিস করতাম তোকে, আমিও বুঝি নি সেটা ভালোলাগা , ভালোবাসা নাকি একটা মোহ, বললাম। তবে দুর্গাপুর ছেড়ে যাওয়ার পর কোনদিন ভাবিনি তোর সঙ্গে আবার দেখা হবে। মনের ভেতর একটা অদ্ভুত শূন্যতা কাজ করতো, সেটা কেন জানি না বা বুঝতে পারি নি বললাম অহনাকে তুই গান করছিস এখন...জিজ্ঞাসা করলাম। নাহ্ অনেকদিন গান করি নি, আসলে গান করার মতো পরিস্থিতি বা শোনার মতো মানুষও নেই আমার জীবনে। কত্তা মশাই টিউশন নিয়ে থাকেন, স্কুলের পরে। তাই কোন অবকাশ নেই ওনার, তা ছাড়া গানের ব্যপারে কোন আগ্রহ নেই ওনার, তাই আর গান করা হয় না, বলল অহনা। দ্যাখ জীবনে যে কোন কাজে যদি কোন উৎসাহ দেওয়ার মানুষ না থাকে তবে সেই কাজ অকালে শেষ হয়ে যায়, বলে অহনা। আমার জীবনে সুখ বা স্বাছন্দ যা আছে তা সবই বাঝ্যিক, মনের জায়গাটা আজও অপূর্ণ, বলে অহনা। যদি সেই সময় তোর মনের কথা প্রকাশ করতিস তবে হয়তো আজ আমার ঠিকানা কেয়ার অফ রজত বাসু হতো। কিন্তু বিধাতার না চাওয়া, সেটাকে তো আমরা কেউই উপেক্ষা করতে পারি না। জানিস আমি রোজ বাড়ি ফিরি যখন, আমাকে একটু জল গড়িয়ে দেওয়ার জন্য কেউ থাকে না, আমার স্ত্রী নিজেও কাজের মধ্যে আছে তাই তাকেও আমি বলতে পারি না, আমার অবস্থান ওই বাড়িতে খানিক টা ফিনান্সারের মতো। স্ত্রীর ব্যবসায় টাকা লাগবে, ছেলের জন্য টাকা লাগবে, সেই সময় শুধু আমার সঙ্গে কথা বা যোগাযোগ। সংসারের মাধুর্য আজও আমার কাছে অধরা। হয়তো আর এই জীবনে সেটা ছোঁয়া হবে না, বলে ফেললাম আমিতবে একটা কথা জানবি, ভাললাগার মধ্যে যে মাধুর্য আছে, ভালবাসার মধ্যে সেটা নেই। খেয়াল করে দেখিস ভালোবাসা কথাটার মধ্যে একটা আশা বা প্রতি আশার কথা লুকিয়ে আছে। আর আছে নিজের মতো করে চাওয়া বা পাওয়ার একটা অভিপ্রায়।আমার মনে হয় যে কোন সম্পর্কে বিবাদ সেই আশা বা প্রত্যাশা থেকেই। তোর কাছ থেকে আমার আশা বা প্রত্যাশা কিছু নেই, তাই হয়তো তোর ব্যপারে আজও মনে একটু অন্য অনুভূতি রয়েছে। আচ্ছা আজ আমার মুখে তোর সম্পর্কে আমার মুল্যায়ন শুনে কেমন অনুভূতি হচ্ছে তোর...জিজ্ঞাসা করলাম অহনাকে। বলব? খুব আফসোস হচ্ছে, ফিরে যেতে ইচ্ছে করছে সেই সময়ে যখন আবার নতুন করে তোকে বলার সুযোগ পেতে পারি, ভালবাসি, বলল অহনা। দ্যাখ আজ তোর আর আমার জীবন একদম ভিন্ন স্রোতে বয়ে চলেছে, গন্তব্য এক হলেও আমরা দুজনে দুটো পথে এগিয়ে চলেছি অমৃতের সন্ধানে, বললাম আমি। ফিরে দেখা দিনগুলো আমাদের জীবনে পথ চলার পাথেয় হতে পারে কিন্তু সমান্তরাল সরল রেখার মতো, যা কোনদিন এক হয়ে যাবে না অথচ ভীষণভাবে একে অপরের প্রতি দুর্বল। জানিস আমার কোন অভিযোগ নেই পরিবারের প্রতি যদিও আমার গিন্নি কোনদিন বুঝতে চায় নি আমি ঠিক কি চাই মানসিকভাবে। সংসারের প্রতি দায়বদ্ধ তাই নিজের চাহিদাকে গুরুত্ব না দিয়ে সংসারের কর্তব্য করে চলেছি। আমি যন্ত্রমানব হয়ে গেছি, বলে কেঁদেই ফেললাম আমি। অহনা আমার কাধে হাত রেখে বলল, রজতদা, যন্ত্রমানব শুধু তুমি নয়, সম্পর্ক বা সমাজের চাহিদার কথা মাথায় রেখে আমরা প্রায় সব্বাই তাই হয়ে আছি। এর মধ্যে যারা একটু বিদ্রোহ করে ফেলে তাদের বিচ্ছেদ অনিবার্য। আর তোমার আমার মতো যারা মুখ বুজে আছে, তাদের সারা জীবন না সওয়া এক সম্পর্ককে বয়ে যাওয়া ছাড়া কোন উপায় তো নেই। কথা বলতে বলতে অনেক বেলা গড়িয়ে গেলো, প্রায় ২ টো বেজে গেলো। অহনাকে বললাম এইবার চল রে। ওরা নিশ্চয়ই আমাদের জন্য অপেক্ষ্যা করছে। তোমার হাতে একটু স্পর্শ করবো, জিজ্ঞাসা করে অহনা। খুব ইচ্ছে করছে জানো। যদিও আমরা দুজনে দুটো আলাদা সম্পর্কে আবদ্ধ তবুও কেন জানি না অন্যায় মনে হচ্ছে না এই প্রস্তাবে, হাত বাড়িয়ে দিলাম অহনার দিকে, ও আমার ডান হাতের তালুতে চুম্বন করলো। বিদ্যুতের তরঙ্গ বয়ে গেলো বুঝি মনের ভেতরচুপ করে অনুভব করলাম সেই তরঙ্গের ব্যপ্তি। যৌবনের শুরু যেই মহিলাকে দেখে বা মনে করে সেই মহিলার আবেগ মাখা স্পর্শ কেমন যেন মোহিত করে দিলো কিছুক্ষনের জন্য। তারপর চুপচাপ বেশ কিছুক্ষণ দুজনেই। গাড়িতে উঠে বসলাম বাবুলের বাড়ির উদ্দেশ্যে গাড়ি চলল।
                                                     ক্রমশঃ 

English poem by Durba Mitra








NO COLOUR ON HOLI
Ma
You had gone
Into coma
On Diwali

I took out
All the plugs
Of all the
Life saving machines.

Brought you home
Baba wanted
You there
.
You had
Kept breathing !
Diwali to Holi
You lived.

Then
You stopped..
Just
Two hours
Before
I reached you.


No lights
On Diwali....
No colours
On Holi....
For me
Anymore.

ফটোগ্রাফী......শান্তনু বোস

সুর্যোদয়


                                                                            প্রতিবিম্ব


ফুল বলে ধন্য আমি

আহা আজি এ বসন্তে...




Friday, February 24, 2017




সম্পাদকীয়   ...............অলোক চৌধুরী
চিত্রাঙ্কন     ..................গৌতম সেন
কারিগিরী সহায়তা ...... নূপুর বড়ুয়া

সম্পাদকীয় / অলোক চৌধুরী

সম্পাদকীয়

 বসন্ত এসেই গেল। কবি বলেছিলেন, “ফুল ফুটুক না ফুটুক, আজ বসন্ত না, এবারে ফুল ফুটেছে অঢেল। নানাদিকে ফুলের সম্ভার। আমগাছ পল্লবভারে নত, সুরভিত। সেখানে এখন মৌমাছির গুনগুন। তারই ফাঁকে ভোরেরবেলায় কোকিল কুহুস্বরে জানান দেয়; বসন্ত এসে গেছে, উঠে পড় সব। হালকা শীতের আমেজ গায়ে মেখে কুহু ডাক শুনতে শুনতে খুশীতে ভরে যায় মন। বাতাসে আজ রঙের উচ্ছ্বাস, খুশীর রঙে ভরপুর। আর বসন্ত মানেই তো রঙের উৎসব। আর দিন পরেই তো দোল। আবিরে আবিরে মেতে উঠবে সবাই। চিলেকোঠাও তার সদস্যদের নিয়ে আগামী মার্চ মেতে উঠবে রঙের উৎসবে। সারাদিনের খুশীকে মনের কোণে একটু ঠাঁই দেবে। যাতে সেই পাথেয় দিয়ে আগামী দিনগুলো আরও সুন্দর হয়ে ওঠে। নতুনরূপে চিলেকোঠা -ম্যাগ এগিয়ে চলেছে সবার হাত ধরে। আসুন, আপনিও আপনার নিজের মনগ্রাহী লেখা গল্প কবিতা, নিজের আঁকা বা ক্যামেরায় তোলা ছবি দিয়ে ভরিয়ে তুলুন -ম্যাগের পাতা। আপনার মূল্যবান সৃষ্টি স্থান করে নিক পাঠকদের মনের আঙিনায়। সমস্ত পাঠককে জানাই বাসন্তিক শুভেচ্ছা। ভালো থাকুন সবাই।

সম্পাদকীয় ও চিত্রাঙ্কন-গৌতম সেন ... সম্পাদনা ও কারিগরী সহায়তা - নূপুর বড়ুয়া

সম্পাদকীয় ও চিত্রাঙ্কন-গৌতম সেন ... সম্পাদনা ও কারিগরী সহায়তা - নূপুর বড়ুয়া