Sunday, March 25, 2018

"মুখোশের আড়ালে " / পীযূষ কান্তি দাস



এই বিমলি , ছেনাল মাগী,  কোথায় গেলি হারামজাদী , কাল থেকে বলে রেখেছি আমায় আজ সকালে দশটায় প্রেসক্লাবে যেতে হবে অথচ আমার  জুতো পালিশ করে রাখিস নি কেন ?বলি তোর বাপের বাড়ি থেকে কয়টা চাকরাণী পাঠিয়েছে যে তুই আমার কাজ না করে এখনও বিছানায় শুয়ে আছিস ?  রাগে গজ গজ করতে করতে আপন পুত্রবধূর চৌদ্দগুষ্টি উদ্ধার করতে লাগলেন মিসেস চৌধুরী ॥ 
মিসেস চৌধুরীকে অবশ্য আপনারা চেনেন না । আমি  চিনি । তা কতদিন ধরে চিনি সে কথা বলতে গেলে আমায় আবার হিসেব কষতে বসতে হবে । এই ধরুন আমি এপাড়ায় এসেছি বছর পাঁচেক  আর তার আগে ওই যখন এই কোলকাতার বিখ্যাত দৈনিক সংবাদপত্র "----বাজারের "একজন মামুলি জার্নালিস্ট ছিলাম বছর তিন -চার তখন এক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন যারা আবার বিভিন্ন নারী কল্যাণমূলক কাজের সাথে যুক্ত ও সেই কাজের সুবাদে বিদেশ থেকে প্রচুর সংবর্ধনা ও আর্থিক অনুদানও পেত তাদের এক মিট দ্য প্রেস অনুষ্ঠানে আমার সাথে মিসেস চৌধুরীর আলাপ করিয়ে দিয়েছিলেন ওদের প্রেসিডেন্ট মিসেস পাকড়াশী । মিসেস চৌধুরী তখন ছিলেন ওই সংস্থার একজন নবাগতা সদস্যা । তারপর আমি ও হঠাৎ কপালের জোরে একটা নামকরা ইংরেজী পত্রিকার সহকারী রিপোর্টার হিসেবে দিল্লী চলে গেলাম । সেখানে গেলেও কোলকাতার সঙ্গে যে আমার যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছল তা নয় , আমার এখানকার বন্ধুদের সৌজন্যে সব খবরাখবর ঠিকই পাচ্ছিলাম । সেই বন্ধুদের কাছেই জেনেছিলাম কেমন উল্কার বেগে মিসেস চৌধুরী সাধারন সদস্যা থেকে কেমন ভাইসপ্রেসিডেন্ট , প্রেসিডেন্ট হলেন , কোন কোন নেতার বদান্যতায় কেমন করে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের নারী সংগঠনের সর্বময়নেত্রী ও পরে মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারপার্সন হলেন ॥ 
তা যাক ঘটনাক্রমে কোন একটা কাজে আমি ঠিক ওই সময়ই মিসেস চৌধুরীর কাছে গিয়েছিলাম । মিসেস চৌধুরীর পুত্রবধূ লতা যে আবার আমারই কোলকাতায় থাকা কালীন যে পাড়াতে থাকতাম সেই পাড়ারই মেয়ে ,  শাশুড়ির চিৎকারে বাইরে এলো ও তাকে দেখে আমি যারপরনাই বিষ্মিত হলাম । লতার বয়স অনুমানিক সতেরো -আঠেরো বছর । দুধে -আলতা গায়ের রং । নাক ও চোখ দুটি যেন কোন নামী শিল্পীর তুলিতে আঁকা । দেখে মনে হলো দিনমেসে পোয়াতি এবং তার প্রসব কালীন সময় আসতে হয়তো দু -একমাস বাকি আছে ।
অত সুন্দর দেখতে হলেও তাকে কেমন যেন বিমর্ষ ও অপুষ্টিতে ভোগা বলে মনে হলো । সে এসে মেঝেতে বসে আঁচল দিয়ে আপন শশ্রুমাতার জুতো জোড়া পরিষ্কার করে রাখলো । মিসেস চৌধুরী এসে সোফায় বসলেন এবং আমায় চা দেওয়ার কথা বলে আপন অভিষ্ট প্রেস ক্লাবে যাবেন বলে উঠে দাঁড়ালেন । মেয়েটি জুতো জোড়া পায়ে পরিয়ে দিলো । মিসেস চৌধুরীও দ্রুত বেরিয়ে সরকার থেকে প্রাপ্ত গাড়িতে উঠলেন । লতা অবশ্য আমায় তেমন চিনতো না । আমি  চায়ের সাথে মিষ্টি বিস্কিট নাকি নোনতা নেবো জিগ্গেস করায় আমি বললাম যে  আজ নয় অন্য কোনদিন । আজ আমার ভীষন তাড়া আছে ।  সে বললো যে আমি যদি চা না খেয়ে চলে গেছি মিসেস চৌধুরী জানতে পারেন তবে তার কপালে অশেষ লাঞ্ছনা জুটবে  । আমি কথা দিলাম যে আমি চা না খেয়ে যাচ্ছি তা মিসেস চৌধুরী কোনদিনই কোনমতেই  জানতে পারবেন না এবং কথা দিচ্ছি যে পরে যে কোনদিন এসে অবশ্যই তার হাতের চা খেয়ে যাবো ॥ 
বাইরে বেরিয়ে আমি নিজের বাসার দিকে ফিরছি এমন সময় হঠাৎ একটা বেলেরো ক্যাচ করে আমার পাশে এসে দাঁড়ালো । গাড়ির সামনে প্রেস স্টিকার দেখে বুঝলাম যে সেটা কোন সাংবাদিকের । গাড়ির ড্রাইভারের পাশের থেকে চোখে কালো চশমা পরা এক সুবেশা সুন্দরীর গলা ---হাই নিখিলেশদা ! আপ ইঁহাপর   ? দিল্লী সে  কব কোলকাত্তা  আয়ে হ্যায়  ?কাঁহা পর ঠেহরে হ্যায় ?  একদমে এতগুলো কথা বলেই দরজা খুলে সটান আমার পাশে এসে দাঁড়ালো । আমি কেমন থতমত খেয়ে গেলাম । ভালো করে নজর করে বললাম ----তুই বিনীতা না ? তুই এখানে ? আমি তো জানতাম তুই সাউথে কোন একটা নামী পেপারের জার্নালিস্ট হিসেবে ছিলিস ? তা এই কোলকাতায় ? 
আসলে বিনীতা অন্ধ্রপ্রদেশের মেয়ে । ওর পুরো নাম বিনীতা নাইডু । দিল্লীর জহরলাল নেহেরু ইউনিভার্সিটি থেকে মাস কমুনিকেসন এর মাস্টার্স করে দিল্লীর আমাদের পেপারে ট্রেনি হিসেবে কিছুদিন আমারই গাইডেন্সে ছিলো । আমি ওকে হাতে ধরে সাংবাদিকতার বিভিন্ন অ্যাঙ্গেল ও তার বিশ্লেষণ শিখিয়েছিলাম । একবার এক ক্রাইম রিপোর্টের সংবাদ সংগ্রহ করতে ও জোর করে আমার সাথে গিয়ে কি বিপদেই না আমায় ফেলেছিল সে গল্প না হয় আর একদিন করা যাবে ॥ 
ও যা বলল তার মোদ্দা কথা হলো ইদানিং পশ্চিমবঙ্গে হঠাৎ ধর্ষণ,  নারী নির্যাতন ও নারীপাচার বেড়ে গেছে । সেই নিয়ে ওদের পেপার থেকে ওকে একটা এক্সক্লুসিভ রিপোর্ট তৈরি করে জমা দেওয়ার জন্য ওদের চীপরিপোর্টার ওকে আদেশ করেছেন আর ও যেহেতু মেয়ে তাই ওর পক্ষে রিপোর্ট সংগ্রহ করা সহজ হবে বলে তাঁর বিশ্বাস । ওর এখানের এক করেসপন্ডেন্ট ওকে সে ব্যাপারে সহযোগিতা করছে । তার কাছেই ও জেনেছে যে আজ এখানকার প্রেসক্লাবে মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারপার্সন এই নিয়ে "মিট দ্য প্রেস "তে বক্তৃতা দেবেন । সেকারণেই সেখানে সে যাচ্ছিল । পথে পরিচিত  আমায় দেখে সে থেমেছে ॥ 
আমি তাকে জিগ্গেস করলাম যে সে মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারপার্সনকে চেনে কিনা বা তার সাথে তার কোন জানাশোনা বা অ্যাপয়েন্টমেন্ট করা আছে কিনা । বিনীতা ঘাড় নাড়ালে আর বললে যে না তার সেরকম কোন কিছুই করা নেই । মিসেস চৌধুরীর সাথে আমার বিশেষ জানাশোনা আছে জেনে সে আমায় আর ছাড়লে না । একরকম বগলদাবা করেই ধরে নিয়ে প্রেস ক্লাবে গেল ॥ 
         আমরা যখন প্রেস ক্লাবে পৌঁছলাম দেখি সেখানে তখন গিজগিজে ভিড় । দৈনিক রঘুমতি পত্রিকার অনিন্দ্য আমায় দেখতে পেয়ে নিখিলেশদা এদিকে এদিকে বলে আমায় বসতে বললে । আসলে এই অনিন্দ্য আর আমি এক কলেজ থেকেই জার্নালিজম পড়েছিলাম । তবে আমি ওর থেকে দুবছরের সিনিয়র ছিলাম ॥ 
আমি বললাম--অনিন্দ্য আমি একা নেই । আমার সাথে বিনীতা মানে বিনীতা নাইডুও  আছে । ও সাউথের চেন্নাই মিরর  থেকে এসেছে । আর বিনিতাকে বললাম -বিনীতা মিট মাই জুনিয়র ফ্রেন্ড অনিন্দ্য । হি ইজ এ অ্যামাজিং পার্সন । নাউ হি ইজ ওয়ার্কিং অ্যাজ সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার ইন ডেইলি রঘুমতি । ওরা পরস্পর করমর্দন করলে । 
অনিন্দ্য বিনীতার ও বসার জায়গা করে দিল । সে সময় কোন একজন হোমরা চোমরা ব্যক্তি বর্তমান সমাজে নারী জাতির ভূমিকা নিয়ে কিছু বলছিলেন । সম্ভবতঃ রাজ্যের কোন মন্ত্রী  হবেন , মুখটা চিনি নামটা মনে করতে পারলাম না । আসলে বয়স হয়েছে তো ! আজকাল সবকিছু তেমন মনে রাখতে পারি না । জানি না অ্যালঝাইমাতে আক্রান্ত হচ্ছি কিনা ।
মনে হচ্ছে খুব শীঘ্রই ডক্টর বোসের সাথে একটা অ্যাপয়েন্টমেন্ট করা দরকার । সুমনাও বলছিল সেদিন যে আজকাল আমার নাকি স্মৃতি শক্তি হ্রাস পেয়েছে । বাজার থেকে যাকিছু আনতে বলে তার নাকি বেশ কিছু ভুলে যাই আর বেশ কিছু অন্য জিনিস নিয়ে আসি এই নিয়ে তার অভিযান ও কম নয়  ॥ 
তা যাক সে কথা । আমি ভাবছি ওই সব কথা আর ঠিক তখনই মিসেস চৌধুরী উঠলেন বলতে । ঝাড়া পয়তাল্লিশ মিনিট ধরে তিনি বর্তমান সমাজে মেয়েরা কত অবহেলিত , বাড়িতে কত নির্যাতনের শিকার , পণ প্রথার জন্য কত বধূর উপর বাড়ির অত্যাচার , বধূহত্যা , নারী ধর্ষণ , বিয়ের নামে মেয়ে বিক্রী ইত্যাদি নিয়ে গালগর্ভ বক্তৃতা দিলেন । পুরো প্রেস ক্লাব করতালিতে ফেটে পড়ার অবস্থা । ঠিক তখনই আমি ভাবছিলাম ওনার বাড়ির কথা । আসন্ন প্রসবা ওর পুত্রবধূর কথা ,  সেই উদাস বিমর্ষ নেতিয়ে যাওয়া লতার কথা । হ্যাঁ লতা মানে মিসেস চৌধুরীর পুত্রবধূ । ভাবছিলাম আর বাস্তবের সাথে তার তফাৎ কত  মেলাতে চাইছিলাম । আসলে কোন সেই ছোটবেলায় পড়া একটা কথা মনে পড়ছিল বড়ো বেশি করে তা হলো লোহাই লোহাকে কাটে । মানুষের মুখ আর মুখোশের পার্থক্য ধরা বড়ো কঠিন ।।
         যতোদিন না পুত্রবধূকে মেয়ে হিসেবে মেনে নিতে পারবে শাশুড়িরা , যতোদিন না আমরা নারীকে ভোগ্য বস্তু না ভেবে সম্মান দিতে পারবো , তাঁরাও যে আমার আপনার মতো কোন বাড়ির মা , মেয়ে ,বোন ভাবতে পারবো  ততদিন যতই কেন আন্তর্জাতিক নারী দিবস পালন করি  তার কোন স্বার্থকতা আছে বলে আমি মনে করি না ॥


GREAT LEADER IN ANY FIELD by Durba Mitra



GREAT LEADER IN ANY FIELD

In our own country or anywhere else in this world – people look up to good leadership in any field to lead to success. The synergy between the leader and his followers keeps changing according to the history-geography-demography of the group.

From a mere facebook group to running a corporate firm or a military unit – upto leading a country – leadership is a key factor in doing so.

We are mostly criticizing the leaders without realizing their workload and responsibilities – be it a football team – or our own state – or the country itself.

Let us have a walk through the nitty grittiness of leadership instead of battering them fruitlessly.

LEADERSHIP: THE SINGLE MOST IMPORTANT FACTOR
Without a team—a group of individuals working to accomplish a mission—there can be no leadership. The only meaningful measure for a leader is whether the team succeeds or fails. For all the definitions, descriptions, and characterizations of leaders, there are only two that matter: effective and ineffective. Effective leaders lead successful teams that accomplish their mission and win. Ineffective leaders do not.
For leaders, the humility to admit and own mistakes and develop a plan to overcome them is essential to success. The best leaders are not driven by ego or personal agendas. They are simply focused on the mission and how best to accomplish it.















Sunday, February 25, 2018

সম্পাদকীয় ও চিত্রাঙ্কন-গৌতম সেন ... সম্পাদনা ও কারিগরী সহায়তা - নূপুর বড়ুয়া


সম্পাদকীয় / গৌতম সেন


সম্পাদকীয়

এ মাসে বসন্ত রেখেছে পা ধরণীর বুকে। মাসটা ফেব্রুয়ারী ইংরাজী নামে, তারই মাঝে এল ফাল্গুন, বসন্তের ডালি নিয়ে। কোকিলের কুহু কুহু রর, গাছে গাছে কচি কিশলয়। ফুলের জগতে আগুন সাজাতে গাছে গাছে ভরে গেল অশোক, পলাশ, কৃষ্ণচূড়া। চিলেকোঠা এই মধুর বাসন্তী ক্ষণে আজ নিয়ে এল তার ই-ম্যাগ আবার।
এবার একটু ফিরে দেখার পাট। গত ২৭শে জানুয়ারী চিলেকোঠার সদস্য-সদস্যারা মিলে জড়ো হয়েছিল এক পিকনিকি জমায়েতে – প্রিন্সসেপ ঘাটে। সারাদিন ব্যাপী এক খুশির হুল্লোড়ে জমজমাট মিলনোৎসব পর্ব সমাধা হল উপস্থিত জনেদের স্বতঃস্ফুর্ত যোগদানে। খাওয়া দাওয়া সে তো ছিলই, আরো যা মন ভরিয়ে দিল, তা হল গান-বাজনা, গঙ্গাঘাটে নৌকা বিহারের এক অনন্য স্বাদ উপভোগ। মনে দাগ কেটে যাওয়ার মত  সর্বাঙ্গসুন্দর এক পিকনিক।

আগামী দিনে আবার এক মহামিলনের, নিখাদ আনন্দের উৎসব এসে হাজির। বসন্ত উৎসব তথা দোল পূর্ণিমার দিনে রঙে রঙে রঙিন হবার দিন। আবিরের অগুণতি রঙের ছটায়, হোলি উৎসব সবার আনন্দময় হয়ে উঠুক এই শুভকামনা জানাই। আশা রাখি এমন এক রঙের উৎসবকে মনে রেখে, চিলেকোঠার সকল সদস্য-সদস্যারা আগামী কোন এক সুন্দর অনুষ্ঠানের মাঝে মেতে ওঠার ডাক পাঠাবে। মন ভরে যাবে এমন এক রঙিন জমায়েতের মাঝে।
প্রতিবারের মত বন্ধুরা তাঁদের লেখনীর অনন্য সৃষ্টিসম্ভারে ভরিয়ে তুলেছেন এবারও এই ই-ম্যাগ। চিলেকোঠা ই-ম্যাগের তরফে তাঁদের এই অবদানকে সবিশেষ কৃতজ্ঞতা জানায়।
‘ওরে ভাই ফাগুন লেগেছে বনে বনে...’ কবির এই গানের রেশ ধরে বলি ফাগুনের রঙ লাগুক মনে মনে। সে আনন্দস্পর্শে বসন্তছোঁয়ায় সবার মনে আনন্দরঙ লাগুক এই আন্তরিক শুভকামনা জানিয়ে শেষ করি আজ।


Saturday, February 24, 2018

ধারাবাহিক / স্বপ্নস্বরূপ - ১৫ / ন ন্দি নী সে ন গু প্ত



 তিনি কবি। তিনি শুধু সত্যদ্রষ্টা নন, সুন্দরের দ্রষ্টা এবং স্রষ্টা। যিনি সুন্দরকে দেখতে পান, উপলব্ধি করতে পারেন, তিনিই তাকে সৃষ্টি করতে পারেন। চতুর্দিকে প্রবল অসুন্দরের মধ্যেও সুন্দরকে ঠিক খুঁজে পায় তার চোখ। এ যেন এক আধ্যাত্মিক সাধনা, ঠিক যেন পরমহংসের মতো জলের মধ্য থেকে দুধটুকু বেছে নেওয়া। প্রশ্ন উঠতে পারে, অসুন্দর কেন বলছি? হ্যাঁ, বলছি। একথা পরিষ্কার যে দৈনন্দিন জীবনযাত্রার জটিলতার মধ্যে সুন্দর সবসময় থাকেনা তাছাড়া কবি বেঁচেছিলেন ভারতবর্ষের এক অদ্ভুত সমস্যাসঙ্কুল সময়ে। পরাধীন ভারতবর্ষের নানা সমস্যা খুব কাছ থেকে দেখেছিলেন। সামাজিক বিবর্তন এবং ভারতবর্ষের রেনেসাঁর অন্যতম পথিকৃৎ ছিলেন তিনি নিজেই। ফলে, তার জীবনের চলার পথ একেবারেই মসৃণ, কুসুমাস্তীর্ণ ছিল, একথা ভেবে নেওয়ার কোনও কারণ নেই। অজস্র অসুন্দর সমস্যার মধ্য দিয়ে চলতে হয়েছিল তাকে, লড়াই করতে হয়েছিল নানা বাধাবিঘ্নের কাঁটার সঙ্গে, তবেই তিনি ফোটাতে পেরেছিলেন ফুল।
তার লেখার মধ্য দিয়ে বিভিন্ন সময়ে ফুটে ওঠে এই সুন্দর এবং অসুন্দর নিয়ে লড়াই। কবির দৃষ্টিভঙ্গির বিশেষ পরিবর্তন দেখতে পাই, যখন তিনি আধুনিক সাহিত্য নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে বলেন,
   কেউ সুন্দর, কেউ অসুন্দর; কেউ কাজের, কেউ অকাজের; কিন্তু সৃষ্টির ক্ষেত্রে কোনো ছুতোয় কাউকে বাতিল করে দেওয়া অসম্ভব। সাহিত্যে, চিত্রকলাতেও সেইরকম। কোনো রূপের সৃষ্টি যদি হয়ে থাকে তো আর-কোনো জবাবদিহি নেই; যদি না হয়ে থাকে, যদি তার সত্তার জোর না থাকে, শুধু থাকে ভাবলালিত্য, তা হলে সেটা বর্জনীয়' ঠিক এই জায়গায় এসে ভাবতে বসি। ‘সত্তার জোর’ শব্দটা নিয়ে নাড়াচাড়া করি। সত্তার সাথে কি আন্তরিক সততার কোনও সম্পর্ক থাকে? হ্যাঁ, এই আন্তরিক সততা ছাড়া সত্তার জোর আর কীভাবে থাকা সম্ভব? অনেকটা পথ হেঁটে এসে, নিছক ভাবলালিত্য আর তার বিশেষ কোনও মনোযোগের জায়গা কেড়ে নিতে পারেনা, তাকে বর্জন করতেই চান। এখানে এসে সুন্দর, অসুন্দরের সংজ্ঞা গুলিয়ে যেতে পারে যে কারো। 
আসলে তিনি যে ডুব দিয়েছিলেন রূপসাগরে। কিন্তু সে তো বাইরের। অন্তরের যিনি ‘অরূপ’ তাকে যে সুন্দর- অসুন্দরের দাঁড়িপাল্লায় মাপা যায় না, এই কথাই হয়ত তিনি মনে করিয়ে দিলেন নিছক ভাবলালিত্য বর্জন করতে বলে।
অদ্ভুতভাবে সৌন্দর্যের সংজ্ঞা দিতে গিয়ে কবি ক্ষুধার প্রসঙ্গ টেনে আনেন। তার ভাষায়, ‘ফল যে কেবল আমাদের পেট ভরায় তাহা নহে, তাহা স্বাদে গন্ধে দৃশ্যে সুন্দর। কিছুমাত্র সুন্দর যদি নাও হইত তবু আমরা তাহাকে পেটের দায়েই খাইতাম। আমাদের এতবড়ো একটা গরজ থাকা সত্ত্বেও, কেবল পেট ভরাইবার দিক হইতে নয়, সৌন্দর্যভোগের দিক হইতেও সে আমাদিগকে আনন্দ দিতেছে। এটা আমাদের প্রয়োজনের অতিরিক্ত লাভ।’ তিনি কবি, তাই তিনি মনে করিয়ে দেন যাপনের সৌন্দর্য, ‘আজ ক্ষুধা লাগিলেও আমরা পশুর মতো, রাক্ষসের মতো, যেমন-তেমন করিয়া খাইতে বসিতে পারি না; শোভনতাটুকু রক্ষা না করিলে আমাদের খাইবার প্রবৃত্তিই চলিয়া যায়। অতএব যখন আমাদের খাইবার প্রবৃত্তিই একমাত্র নহে, শোভনতা তাহাকে নরম করিয়া আনিয়াছে।’
আবার কখনো তিনি বলেছেন যা মঙ্গলজনক, যা হিতকর, তাই সুন্দর। এখানেও সেই প্রয়োজনের প্রসঙ্গ আসে; ক্ষুদ্রস্বার্থ বাদ দিয়ে বৃহত্তর জগতের কল্যাণের প্রসঙ্গ আসে। সেখানে যা সত্য, তাই সুন্দর হয়ে ওঠে। কিন্তু সত্যকে উপলব্ধি করা? হ্যাঁ, সে আবার ভিন্ন সাধনার কথা। ‘সত্যকে যখন শুধু আমরা চোখে দেখি, বুদ্ধিতে পাই তখন নয়, কিন্তু যখন তাহাকে হৃদয় দিয়া পাই তখনই তাহাকে সাহিত্যে প্রকাশ করিতে পারি' হ্যাঁ, এখানে এসেই বুঝতে পারি যে সাহিত্যে সৌন্দর্যসৃষ্টির ক্ষেত্রেও কবি যে ‘সত্তার জোর’ এর কথা বলেছিলেন, সেই জোর হৃদয়ের সত্য ছাড়া আর কোনও কিছু দ্বারা উপলব্ধি করা অসম্ভব।
(চলবে)        

কবিতা / জন্মান্তরের বিপথে / অনুপম দাশশর্মা





নির্বোধের জন্ম হচ্ছে প্রতিদিন
তুলনায় স্বল্পালোকে ধূসর শরীর
শ্বেতাক্ষরের। 

যে বেদনা সুপ্ত থাকে প্রদোষের 
সান্ধ‍্যদেউলে
ভোরকে সাক্ষী রেখে তাই-ই ছড়িয়ে পড়ে
উদাসীন স্বজনমহলে।


কবিতা / ভালোবাসি তো / বুবুসীমা চট্টোপাধ্যায়




দরজা খুলতেই সব আলো জ্বেলে দাঁড়িয়েছিলাম 
ঘরে ঢুকতেই বলে ফেললাম সেই কথাটা -
যা তুই কখনো মুখ ফুটে  বলতে পারিসনি , 
 কেবল আঁকিবুঁকি আর আঁকিবুঁকি - এতো যে
আঁকিবুঁকি কাটলি -কাটাকুটি খেললি তবু 
কখনো ঐ চারটে শব্দ ঘুরেফিরেফিরে ফিরে 
একই ডাইনিং – ড্রইং আর  ড্রইংডাইনিং 
 করে গেল ; বললি না কিছুই ...
অথচ ঐ চারশব্দের ঘরে উঠছি , বসছি , 
 ঘুমিয়ে ঘুমিয়ে পাশ ফিরছি ,
বমি পেলে কাঠ বমিতে হলুদ আলোও দেখছি 
জড়িয়ে ধরে বললি '' সর্ষে ফুল দেখছিস নাকি ''? 
মাঝে মাঝে হাতড়ে মরছি -
শ্যামবাজার পাঁচমাথার মোড়ে 
হারিয়ে যাওয়া হাতঘড়ি ;
সময় থমকে গেছে ভেবে -
ময়ূরপঙ্খী পালঙ্কের তলায় ডায়রির ছেঁড়া পৃষ্ঠায় 
আলো জ্বালিয়ে তাকিয়ে থাকি -
চারটে শব্দ ছটফট করে বেরিয়ে আসছে 
মন থেকেবুকে 
বুক থেকে -আমার চোখে ...
কাল আমার সব অন্ধকার হলে তোর মন জ্বলবেই ...... 
তখন বলিস 
‘ভালোবাসি তো !



সম্পাদকীয় ও চিত্রাঙ্কন-গৌতম সেন ... সম্পাদনা ও কারিগরী সহায়তা - নূপুর বড়ুয়া

সম্পাদকীয় ও চিত্রাঙ্কন-গৌতম সেন ... সম্পাদনা ও কারিগরী সহায়তা - নূপুর বড়ুয়া