Wednesday, January 24, 2018

জুঁই, ওরে জুঁই / সোমা বসু





পেয়েছি সুন্দর একটা শিশু বেলা - 
 আঙিনায মুক্ত আনন্দে বেড়ে ওঠা ।
শিশু জুঁইচারার লকলকে আগা মাথায় মাথায় 
বেড়ে ওঠা একসঙ্গে ! 
বড় হওয়ার কি অসম্ভব তাগিদ - 
উজাড় করে ফুল ফোটানোর সোচ্চার ঘোষণা - 
ঘোষণা প্রকৃতির অফুরাণ দানের ! 
সে কত বছরের সঙ্গ বাস জুঁই আর তার, 
কত বসন্ত শীত বর্ষা পার হয়ে যাওয়া , 
ফেলে ফেলে যাওয়া শৈশব... অতীত কথা কত, অতীত বাসনা শত !

জুঁই আজও অমলিন, সাদা ফুলের চাদর গায়ে গন্ধ বিলায রাতে রাতে... 
শিশু চারা তার চারিদিকে যত ভরেছে মাটি ! 

ভাগ্য বযে চলে নদীর স্রোতের প্রায
ডোবায ভাসায - 
অশ্রু হাসি ব্যথা বেদনার ভালোলাগা, না-লাগার সে এক অপূর্ব দোলায ! 
পরিপূর্ণ জীবনের অপূর্ব কান্না হাসি ! 

শুধু 

তন্তু ছিন্ন হওয়ার নয় জুঁই আর তার -  

  
পাওয়া আর না- পাওয়ায ভরপুর বেদনার পেযালা ,
ছড়িয়ে ছিটিয়ে আবার ফিরে পাওয়া,
পড়ে থাকা অবশেষ জীবন , 
পূর্ণ বেদনার ডালি ভরে তুলে নেওয়া অমলিন অখণ্ড আনন্দ - অখণ্ড নীরবতা স্তম্ভিত এক বৈচিত্র্যমযতা ॥

একরাশ জুঁই এর বিকচ বিমল শুভ্রতা !
মিলেমিশে থাকা একঠাঁই, জীবনের এক আঙিনা,
একই মাটি !


কবিতা /বাঁচার ইচ্ছে / প্রজ্ঞা পারমিতা ভাওয়াল


বিনুনি বানাই আমার সমস্ত বিরহের,
দোলাই একান্তে।
সাঁকো  পেরিয়েই চলে এস
আঙুলে আঙ্গুল ছুঁয়ে পিছু পিছু।
মনখারাপের ঝুলি নিয়ে কাবুলিওয়ালার সাথে ভাব ;
প্রহর গুনি অপেক্ষায়।
মৃত্যুকে ভয় পাইনি আগে
আজকাল বড্ড বাঁচতে ইচ্ছে করে;
মুখ ভরেছে কতনা বলিরেখায়
চুলে ধরেছে পাক, বেশ ক’টা দাঁত উধাও!
চোখে চশমা,
অভিজ্ঞতার  কিছু বলিরেখা বলে অন্য কথা ।
মনের  জেলখানার আর্তনিনাদ ভুলে
নতুন করে বাঁচতে চায় এই জীবন।

কবিতা / আমার তুমি / অর্পিতা ভট্টাচার্য


                               তোমার জন্যে একটা আকাশ,
                               এমন কি আর শক্ত ব্যাপার?
                               বুকের ভেতর সাগর টা
                               তোমার জন্যেই রাখা আমার
                               উথা্লপাথাল ঢেউয়ের ধাক্কায়,
                               ডুবতে থাকে নৌকো যেম্‌ন,
                               তোমার চোখের অতলতায়
                               জীবন বাজি রাখি তেমন|
                               জানতে চাও কেমন করে,
                               অতলতায় ডুবতে হয়?
                              এস আমার হাতটি ধরো,
                              তোমায় বুঝিয়ে দিচ্ছি তায়|
                              ডুবতে ডুবতে অতলতায়,
                              আবার ভেসে উঠি যখন,
                              দ্বিধা, দ্বন্দ্ব, লজ্জা, ভয়
                              আমায় ঘিরে ধরে তখন|
                              ডুব মাঝারে অতল শান্তি,
                              নেই কোন ভয়, নেই কোন লাজ
                              মায়া বন্ধন ছিন্ন করে,
                              ডুবে যেতেই এসেছি আজ|

রান্নাঘর / চিংড়ি বিরিয়ানি / জয়া বাসু


চিংড়ি বিরিয়ানি উপকরণ: 
চালের জন্য :বাসমতি বা যেকোনো সুগন্ধি চাল ২ কাপ,দারচিনি ১ টি,লবন ১/২ চা চামচ,লবঙ্গ ৫ টি,এলাচ ৫ টি, ১ লিটার জল গরম করে তাতে আস্ত গরম মশলা আর লবন দিন। জল ফুটে উঠলে তাতে আগে থেকে ভিজিয়ে রাখা চাল ঢেলে দিন। চাল ফুটে উঠলে জল ঝরিয়ে আলাদা করে রাখুন। চাল ভিজিয়ে রাখার কারণে আর গরম জলের কারণে খুব তাড়াতাড়ি চাল সিদ্ধ হয়ে যাবে। চিংড়ির জন্য : চিংড়ি ৪০০ গ্রাম (খোসা ছাড়ানো ),আদা রসুন বাটা ২ চা চামচ,লবন সামান্য,লংকা গুঁড়ো ১ চা চামচ,দারচিনি ১টি,আস্ত জিরা ১ চা চামচ,তেজপাতা ১ টি,এলাচ ৫ টি,পেয়াজ ভাজা ১ কাপ,টকদই ১ কাপ,তেল ১/২ কাপ,ধনে পাতা কুচি,মাশরুম ১/২ কাপ কুচি করা। 

প্রণালীঃ চিংড়ি ভালোভাবে ধুয়ে জল ঝরিয়ে তাতে আদা বাটা , রসুন বাটা ,লংকারগুঁড়ো আর লবন দিয়ে মাখিয়ে রাখুন ৩০ মিনিট।প্যানে তেল গরম করে গরম মশলা গুলো দিয়ে দিন।সুগন্ধ বের হলে তাতে চিংড়ি , মাশরুম দিয়ে ৪ মিনিট ভাজুন মাঝারি আচে।ভাজা চিংড়ি গুলো তুলে আলাদা করে রাখুন।একই তেলে টকদই ,পেয়াজ ভাজা ,ধনে পাতা দিন। ৫ মিনিট রান্না করে এতে আবার ভাজা চিংড়ি গুলো দিয়ে দিন।২মিনিট রান্না করুন ,এইসময় প্যান ঢেকে রাখুন।ঢাকনা খুলে সিদ্ধ চাল দিয়ে দিন।ঢেকে মাত্র ৫ মিনিট রান্না করুন।লবন চেখে দেখুন ,কম মনে হলে আরো দিন। গরম গরম পরিবেশন করুন মজাদার চিংড়ি বিরিয়ানি।

Sunday, December 24, 2017

সম্পাদকীয় ও চিত্রাঙ্কন-গৌতম সেন ... সম্পাদনা ও কারিগরী সহায়তা - নূপুর বড়ুয়া


সম্পাদকীয় - / গৌতম সেন

সম্পাদকীয় -
বছর তার লট-বহর গুছিয়ে প্রায় তৈরি কটা দিন পরেই অতীতের তেপান্তরে পাড়ি জমাবে সে। ২০১৭ জায়গা ছেড়ে দেবে আর এক নতুন বছর কে - ২০১৮ নতুন কলেবরে এসে আবির্ভাব হবে আগামী দিনপঞ্জীর প্রাত্যহিকীতে। কালের নিয়মে নির্ধারিত এ বিদায়পর্ব ফিরে ফিরে আসে, আসে নতুন বছর নতুন নামে। এভাবেই একাবিংশ শতাব্দী এগিয়ে চলেছে।
আমরাও সেই চিরাচরিত নিয়মের হাত ধরে এগিয়ে চলেছি। জীবনের নানা সংঘাত, নানা সুখ-দুঃখকে মোকাবিলা করে এগিয়ে চলেছি আগামীকে বরণ করে নেব বলে। আরও নতুন নতুন আশা জন্ম নেবে মনে। এভাবেই জীবন চির বহমান, গতিময় ও নিত্য ঘটমান।
চিলেকোঠা এমনই এক বর্ষ সন্ধিক্ষণে আজ প্রকাশিত হল তার ই-ম্যাগের সম্ভার নিয়ে। বহু গুণী লেখক কবিদের সম্বৃদ্ধ লেখনীর অবদানে এ সংখ্যাটিও উৎকর্ষতার এক সুন্দর ভাণ্ডার নিয়ে উপস্থিত। সকল সদস্য-সদস্যার শতস্ফুর্ত যোগদান, তাঁদের সৃষ্টিশীল অবদানকে চিলেকোঠা কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছে অকুণ্ঠ হৃদয়ে। এমন সহৃদয় সহযোগীতা পেয়ে চিলেকোঠা ই-ম্যাগ সত্যিই নতুন কিছু করার প্রয়াস নিতে বিশেষ ভাবে অনুপ্রাণিত হয়। বেশ কিছু সুন্দর পরামর্শ ও অনুরোধ পাওয়া গেছে সদস্য-সদস্যাদের কাছ থেকে। সে গুলি নিয়ে ভাবনা-চিন্তা করা হচ্ছে, ও যথাসময়ে তার কিছু কাজে করে দেখানোর সদিচ্ছাও পোষন করি আমরা। যারা নানা-রকম পরামর্শ জানিয়েছেন এই ই-ম্যাগকে আরও সম্বৃদ্ধ করার জন্য, তাঁদের সকলকে আন্তরিক ধন্যবাদ।
শীতের আগমন বোধহয় এখন খানিকটা সুনিশ্চিত ভাবে ধরা দিয়েছে, আকাশে বাতাসে তাই এক হিমশীতল ভাব। কবির ভাষায় – ‘পৌষ তোদের ডাক দিয়েছে...’এই শীতকাল বাঙালীর কাছে বিশেষভাবে আকর্ষণীয় সামনে আছে বইমেলা, আছে নানান সঙ্গীতানুষ্ঠান বিশেষতঃ উচ্চাঙ্গ সঙ্গীতের আর সর্বোপরি আছে পোষ-পাবণের মহাভোজ পিঠে-পায়েস, নতুন গুড়। সবাই খুব ভাল থাকুন গানে আর ঘ্রাণে, পাঠে আর পিঠেতে, এই শুভকামনা জানিয়ে আজ এখানেই থামা যাক।


ধারাবাহিক / স্বপ্নস্বরূপ - ১৩ / ন ন্দি নী সে ন গু প্ত


স্বপ্নস্বরূপ - ১৩
আজ এমন একটি বিষয় নিয়ে বলতে চাই, জানি না সে বিষয় এক পর্বে বলা সম্ভব কিনা। কিন্তু সম্ভব না হলেও, এটা বুঝতে পারছি যে এই কথা বলবার এই মুহূর্তে বিশেষ প্রয়োজন হয়ে পড়েছে। অদ্ভুতভাবে কিছু চোরাস্রোত প্রবেশ করছে আমাদের সমাজজীবনে যেখান থেকে এরকম মত উঠে আসছে যে রবীন্দ্রনাথ সেই অর্থে সাম্প্রদায়িক না হলেও একটি বিশেষ সম্প্রদায়ের ধর্মবিশ্বাসের ব্যাপারে বেশ জাজমেন্‌টাল ছিলেন। এই কালিমালেপন যে মৃত্যুর এত বছর পরেও তাকে সহ্য করতে হবে, সে কথা কে জানত? না, এই মুহূর্তে আর মানুষটি হৃদয়ের অন্তস্থলে কিরকম ভাব পুষে রেখেছিলেন, সে কথা জানা সম্ভব নয়। তবে তার বিভিন্ন লেখাপত্র থেকে জানা সম্ভব যে ঠিক কী ধরণের চিন্তা সমাজে ছড়িয়ে পড়া উচিত বলে তিনি ভেবেছিলেন। সমাজের মঙ্গলকামনায় তার মতো একজন শিক্ষাবিদের ধারণা কি ছিল এই বিষয়ে আজ উচ্চকিত কণ্ঠে বলবার সময় এসেছে।
আজ এই বিশ্বায়নের যুগে দাঁড়িয়েও বারে বারে পৃথিবীতে মাথা চাড়া দিয়ে উঠছে নানা বিভেদকামী শক্তি। তার ভাষাতেই বলি, ‘বাহিরের দিকে দরজা যতই খুলিতেছে, প্রাচীর যতই ভাঙিতেছে, মানুষের জাতিগুলির স্বাতন্ত্র্যবোধ ততই যেন আরো প্রবল হইয়া উঠিতেছে। এক সময় মনে হইত মিলিবার উপায় ছিল না বলিয়াই মানুষেরা পৃথক হইয়া আছে কিন্তু এখন মিলিবার বাধা সকল যথাসম্ভব দূর হইয়াও দেখা যাইতেছে পার্থক্য দূর হইতেছে না।' তিনি সত্যদ্রষ্টা ছিলেন। সমাজকে সতর্ক করেছেন তার বার্তার মধ্য দিয়ে বারবার। ভেদবুদ্ধি ছড়িয়েছেন বলে কোনও অর্বাচীন কোথাও বলবে না। তবুও যদি কেউ আজ বলে, ধরে নিতে হবে ক্ষুদ্রস্বার্থবুদ্ধি তাকে দিয়ে আজ বলিয়ে নিচ্ছে এই কথা।
সবার আগে কবি নিজেকে চিনে নেওয়ার চেষ্টায় রত ছিলেন। যিনি নিজেকে সম্পূর্ণরূপে জানেন, বোঝেন যে তার ধর্ম কীভাবে তার অস্তিত্বকে ধারণ করে আছে, তিনি কি অন্যধর্মের প্রতি অসহিষ্ণু থাকতে পারেন? যার নিজের ব্রহ্মাণ্ডের ভরকেন্দ্র টলটলায়মান, তিনিই ক্ষিপ্ত হয়ে বিভেদকামিতাকে আমন্ত্রণ জানাবেন। সুখের কথা এবং শান্তির কথা, রবীন্দ্রনাথের সেরকম কোনও অবকাশ আসেনি।
না, রবীন্দ্রনাথ হিন্দু ছিলেন না। তিনি ব্রাহ্মধর্মাবলম্বী ছিলেন। কিন্তু হিন্দুধর্ম যে ক্ষুদ্র স্বার্থান্বেষী মানুষের ধর্ম নয়, সে বিষয়ে তার থেকে ভালো বিশ্লেষণ আর কেউ কোথাও করেছেন বলে চোখে পড়ে নি। বলেছেন, যা জীবনধর্মী, তা গতিশীলএর স্থিতির দিকে যেমন সংজ্ঞা আর অস্তিত্ব আছে, গতির দিকেও পাল্লা হাল্কা নয়। এখন যেকোনো একদিক থেকে একে বিচার করাই একচোখোমি। তিনি চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়ে গেছেন। আমরা অন্ধ, মূক, বধির হয়ে আছি। কবি বলছেন, ‘যেসকল আচার আমাদের শাস্ত্রে এবং প্রথায় অহিন্দু বলিয়া গণ্য ছিল আজ কত হিন্দু তাহা প্রকাশ্যেই লঙ্ঘন করিয়া চলিয়াছে; কত লোককে আমরা জানি যাঁহারা সভায় বক্তৃতা দিবার ও কাগজে প্রবন্ধ লিখিবার বেলায় আচারের স্খলন লেশমাত্র সহ্য করিতে পারেন না অথচ যাঁহাদের পানাহারের তালিকা দেখিলে মনু ও পরাশর নিশ্চয়ই উদ্‌বিগ্ন হইয়া উঠিবেন এবং রঘুনন্দন আনন্দিত হইবেন না। সমস্ত বাঁধাবাঁধির মধ্যেও হিন্দুসমাজ একপ্রকার অর্ধচেতন ভাবে অনুভব করিতে পারে যে, বাহিরের এইসমস্ত পরিবর্তন হাজার হইলেও তবু বাহিরের — যথার্থ হিন্দুত্বের সীমা এইটুকুর মধ্যে কখনোই বদ্ধ নহে।’
আমরা হয়তো বা আজ ভুলতে বসেছি যে তিনি পদে পদে সতর্ক করে গিয়েছিলেন। বলে গিয়েছিলেন, ‘ধর্মের বেশে মোহ যারে এসে ধরে...’। তিনি সম্যকরূপে ভারতবর্ষকে চেনবার একটা চেষ্টা চালিয়ে গিয়েছিলেন। তিনি জানতেন, ব্রিটিশ আমলেও এই সমস্যা নতুন কিছু ছিল না। তার কথায় ‘স্বদেশ ও স্বজাতি-রক্ষার জন্য হিন্দু এক হইতে পারে না, গোষ্ঠ এবং গোজাতি-রক্ষার জন্য চাই কি তাহারা এক হইতেও পারে। স্বাধীনতা স্বদেশ আত্মসন্মান মনুষ্যত্ব প্রভৃতি অনেক শ্রেষ্ঠতর পদার্থের অপেক্ষা গোরুকে রক্ষা করা যে আমাদের পরমতর কর্তব্য, এ কথা হিন্দু ভূপতি হইতে কৃষক পর্যন্ত সকলেই সহজে বুঝিবে।’ তিনি বুঝেছিলেন হিন্দুধর্মের বিপদের খানাখন্দ। বড় দুঃখের কথা, আমরা আজ স্বাধীনতার এত বছর পরেও বেরিয়ে আসতে পারি নি, চলতে পারি নি ভেদবুদ্ধির উর্ধে উঠে তার নির্দেশিত পথে।

(চলবে) 

কবিতা / বুকের ভেতর দাঁড়ের শব্দ / অনুপম দাশশর্মা




সামান্য আবছা আলোটুকু মাখব বলে
আমি হেঁটে চলি শ্রাবণহারা ধুসর
বিকেলপথে
আত্মআবিষ্কারের শূন্যগর্ভে ভেসে ওঠে
এক অদ্ভুত ধ্বনির আভাস
অনুভব করি, পরিচয়হীন এক আত্মার উপস্থিতি।
ডুবে যেতে থাকি অনন্ত বিস্মৃতির কুয়াশাবাগানে
শুধু সামনে ঝলসে ওঠে ক্রমাগত যুদ্ধে লিপ্ত থাকা
রঙিন মানবজীবন
পাশ দিয়ে বয়ে যায় বহমান তিস্তা
ভাবের অবগাহনে দিই ডুব সাঁতার
বুকের ভেতর দাঁড়ের শব্দ ওঠে-
ছলাৎ ছল....ছলাৎ ছল.....


অনু গল্প / খেলা / রীনা রায়।


অটোয় বসে কলকল করে ঘামছে রিয়া, প্রায় দশমিনিট হল ট্র্যাফিকের জ্যামে আটকে, কিন্তু সেদিকে ওর ভ্রুক্ষেপ নেই।
কফিশপের ছবিটা কিছুতেই মন থেকে সরাতে পারছেনা। 
নেট অন করতেই টুং করে মেসেজ ঢুকলো, সৌরভের মেসেজ --- ডিসগাস্টিং বলেও হঠাৎ একটা শব্দে চোখটা আটকে গেল ----'সুইসাইড'-- কি মনে হওয়ায় রিয়া একটা স্ক্রীনশট নিয়ে রেখে দিলো।
---
বাড়ি ফিরে সৌরভকে ফোন করলো রিয়া। জানালো, ওরা কাল মিট করবে। কাল, 'আহিরী' শপিংমলের মোড় থেকে ও সৌরভকে পিক-আপ করবে।
তারপর সৃজাকে একটা ফোন করে অনলাইন হতে বললো।
----
সৃজাকে ও সব জানালো। সৌরভ যে ওদের দুজনকে নিয়েই খেলছে 
সেটা বোঝালো।
রিয়ার ভালবাসা না পেলে সৌরভ নাকি সুইসাইড করবে--স্ক্রীনশটটা সৃজাকে সেন্ড করলো রিয়া।
প্রচন্ড রেগে সৃজা একটা বোকামি করে বসলো, স্ক্রীনশটটা সৌরভকে পাঠিয়ে কৈফিয়ত চাইলো।
বুদ্ধিমান সৌরভ সব বুঝে গেলো।
---
পরদিন রাস্তায় একটা অ্যাকসিডেন্ট হয়েছিল, রিয়া নামের মেয়েটা আর কোনদিন কোন স্বপ্ন দেখবেনা!
এই ঘটনায় পর ভীত সৃজা নির্বাক হয়ে গেল।
--
দিনকয়েক পর এক কফিশপে দেখা গেল, সৌরভ তার অন্য 'শিকার' এর সাথে প্রেম প্রেম খেলায় মগ্ন হয়ে আছে।

অনু গল্প / সময়ের অপেক্ষা / উৎসব দত্ত



জানলা দিয়ে কুকুর ডাকার আওয়াজ আসছে ক্রমাগত। এখন রাত পৌনে দুটো। এখনও মাথাটা টলছে। কিভাবে যে কি হয়ে গেল। তবে শান্তি । কাল থেকে যথারীতি ঘ্যান ঘ্যান শোনার থেকে মুক্তি। এখন কি তবে একটু ঘুমবো? লিপির বডিটা কি হবে তাহলে? ঠিক ধরেছেন। লিপি আমার স্ত্রী। ওকে আজ আমি ঠিক একটু আগেই খুন করেছি। ও ঘুমোচ্ছিল আমি বালিশ মুখের ওপর চেপে ধরেছিলাম মিনিট দশেক। প্রথমে একটু থতমত খেয়ে ছটফট করছিল আমার গেঞ্জিটা ধরে টানার চেষ্টা করছিল কিন্তু কিছুক্ষনের মধ্যেই ওর হাত পা ছোঁড়া বন্ধ হয়ে এলো। মুখ থেকে বালিশ টা তুলতে দেখি চোখদুটো কপালে উঠে গেছে, হাঁ করে আছে। ওকে মেরে ফেলতে আমার মাত্র পনেরো মিনিট লাগল। আমি ওকে ভালবাসতাম। বিয়ের আগে আমরাও স্বপ্ন দেখতাম। কিন্তু সমস্ত কিছু ওলট পালট হতে শুরু করল ওর অফিসে প্রোমোশন হওয়ার পর থেকে। রাত করে বাড়ি ফেরা । অফিস ট্যুর লেগেই থাকতো। কিছু বলতে গেলে ‘সংসারটা কার টাকায় চলে?’ বিয়ের আগের স্বপ্নগুলো আস্তে আস্তে মলিন হতে শুরু করল। অশান্তি ভালো লাগেনা। ধৈয্যর বাঁধ ভাঙল গতপরশু। দিল্লিতে অফিস ট্যুর! ওর পার্সে মন্দারমনি রিসোর্টের বিল। দুরাত তিন দিন। আর থাকতে পারিনি। ঘুমলে চলবে না। ওর ডেড বডিটার একটা কিছু ব্যবস্থা করতে হবে। ভয় করছে এখন। কাল সকাল হলেই সবাই জানতে পেরে যাবে। হুইস্কি ঢালতে যাবো গ্লাসে, বুকের ভেতরটা ছ্যাঁত করে উঠল, একি! লিপি জেগে উঠেছে যে! হুইস্কির গ্লাস বাড়িয়ে দিচ্ছে আমার দিকে! আমার দিকে মায়াবী দৃষ্টিতে এগিয়ে আসছে। আমায় ধাক্কা দিতে লাগলো। নেশার ঘোরে বুঝতে পারছিনা কি হচ্ছে! আমি লিপিকে মেরে ফেললাম তাও প্রতিদিনের মতো আজও লিপি আমায় ড্রিঙ্ক বানিয়ে দিচ্ছে । হঠাৎ আমার বুকে ওর নখের আঁচড়ে বুঝলাম পুরোটাই স্বপ্ন। কাল আবার নতুন করে ভাবা। নতুন পরিকল্পনা। প্রস্তুতির পালা। শুধু সময়ের অপেক্ষা।

কবিতা / চলাচল / দেবাশীষ সেন




যতখানি ভালো থাকার ইচ্ছে, মনে ততটাই মন্দবাসা
হেমন্তের শিশির ছুঁয়ে, বরষায় ভিজে আসা
চোখে অলচিকি লিপি, দুর্বোধ্য সেই পরিভাষা।

যতখানি পথ হাঁটলে পরে, ভবিষ্যত দেখি স্পষ্ট
পোষমানা সব ভয়, চাঁদের আলোয় নষ্ট
হাত রাখি হাত, পায়ে জড়াক কষ্ট। 

যতখানি কথা শব্দ খোঁজে, মিছিলে কিংবা বুকে
রাংতায় মোড়া ছল, বিশ্বাসী হয় সুখে
টুকরো টুকরো আমিত্ব, ক্ষণজন্মা এ মুখে।।


কবিতা / ইছামতির কথা/ পিনাকী দত্ত গুপ্ত


 তোমায় কখনো দেখিনি, কথাও হয়নি কখনো
তবুও সেদিন রাতে রেডিওতে 'ইছামতির কথা'
 শুনতে শুনতে তোমায় মনে পড়ল মনে '
, ইছামতির ঢেউয়ে ঢেউয়ে ভিজে গেছে তোমার
 দোহারা শরীর আকাশ থেকে ঝরে পড়ছে তারা
 রাত্রি ঘুমিয়ে আছে অববাহিকার সাথে, দ্বিধাহীন
ছলাত ছলাত শব্দে তুমি আর ইছামতি এক হয়ে
গেছো তারপর শুধু এক অন্ধকার, ঘন অন্ধকার

 তোমাকে কিছু বলতে গিয়ে দেখি, ওরা একে একে
 ঘিরে দাঁড়িয়েছে চাঁদের স্তিমিত আলোয় ওদের
রুপোলি চোখ চিকচিক 'রে ওঠে ওরা চেয়ে থাকে
অপলক আমি চুপ করে থাকি অববাহিকার বুকে
 জঙলি ঘাসের বনে শুয়ে থাকে বুনো হাঁস, জোনাকি
  ধূর্ত শেয়াল আমি জেগে থাকি মৃত প্রহরীর মত
 ছায়াগুলি একে একে ফিরে যায় ইছামতি বয়ে চলে
 যদিও তোমায় জানি দেখিনি কখোনো, তবু মনে হয়

রেডিওতে বেজে চলেছে ইছামতির সুর বাকি তারা
 নেমে এলে, আমিও হয়ত ভেসে যাব কোন রাতে...

 ইছামতির নরম ঢেউয়ে লেগে থাকবে তোমার গন্ধ

সম্পাদকীয় ও চিত্রাঙ্কন-গৌতম সেন ... সম্পাদনা ও কারিগরী সহায়তা - নূপুর বড়ুয়া

সম্পাদকীয় ও চিত্রাঙ্কন-গৌতম সেন ... সম্পাদনা ও কারিগরী সহায়তা - নূপুর বড়ুয়া